ফাইভার থেকে আয় কিভাবে করবেন?

ফাইভার থেকে আয় কিভাবে করবেন?

ফাইভার বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং জগতের সেরা অন্যতম মার্কেটপ্লেস। যেখান থেকে আপনি আয় করতে পারবেন শত শত ডলার শুধু মাত্র নিজের পার্টটাইমে সময় দিয়েই।
তবে এর জন্য আপনার জানতে হবে কিভাবে ফাইভারে কাজ করতে হয়। কিভাবে কাজের জন্য নিজের প্রোফাইল কে সাজাতে হয়। কিংবা কিভাবে সুন্দর গিগ তৈরি করতে হয়।
কারন সব কিছুর উপর ডিপেন্ড করেই ফাইভার থেকে আয় করা। তাই আসুন আজকের নিবন্ধিত ব্লগের মাধ্যমে জেনে নেই কিভাবে মার্কেট প্লেস ফাইভার থেকে কিভাবে আয় করবেন
ফাইভার থেকে আয় করা টা আমার মতে অনেক টা সহজ। কারন এখানে আছে প্রচুর কাজ এবং বায়ার এর সাথে সরাসরি ডিল করার সুযোগ।
তো যারা নতুন ফাইভার কে ক্যারিয়ার হিসাবে নিতে চাচ্ছেন তাদের জন্যই আজকের ব্লগ।

ফাইভার থেকে আয় এর প্রো টিপস।

প্রফাইল তৈরি করুনঃ
প্রথমেই যখন আপনি একটি নতুন ফাইভার একাউন্ট তৈরি করবেন তখন তাতে অবশ্যই আপনার প্রোফাইল ফটোস এড করবেন। যেখানে আপনার মুখ খুব ভালো ভাবে আপনি দেখতে পারেন।
তবে অবশ্যই আপনি প্রফোশেনাল লাগে এমন একটি ছবি দেয়ার চেষ্টা করবেন। আর অবশ্যই সব ধরনের ডেস্ক্রিপশন খুব ভালো ভাবে লিখে দিবেন।
এখানে আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার প্রোফাইল ছবিটি কেনো প্রোফেশনাল দের মত হওয়া চাই?
এতে আপনার চেহারা দিয়ে ক্লাইন্টের কি দরকার? তাইতো…
ভালো সার্ভিস দিচ্ছেন আর এটা দিতে পারলেই তো হলো। এটা অনেকাংশেই সত্য যে বেশির ভাগ ক্লাইন্টই সার্ভিস দেখে ,আপনার চেহারা দেখে না।
তারা আপনার কাজের রিভিউ এবং কোয়ালিটি গুলো দেখেই আপনাকে কাজ দিয়ে থাকে। 
তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে কাজ করে অনেক সেলার এর সাথেই কথা বলে জানতে পেরেছি যে, তারা অনেক সময়ই তাদের ক্লাইন্টদের ছবি পাল্টাতে বলেছে। 
তারা তাদের কে প্রোফেশনাল লাগে এমন ছবি ব্যবহার এর পরামর্শ দিয়েছেন।
ইভেন এক ক্লাইন্ট টপ রেটেড এক সেলার এর ছবি দেখে ভয় পেয়েছিলো এমন ধারনা নিয়ে তাকে আর কাজ দেয়নি।
কারন টা মনে রাখবেন একজন ক্লাইন্ট চায় সব সময়ই একজন ভালো মানের প্রোফেশনাল সেলার।
তাই কিভাবে এটি সেট করবেন সেটি আপনি গুগল এ সার্চ করলে খুব ভালো একটি আইডিয়া পেয়ে যাবেন।
এছাড়া আপনি সব সময়ই চেষ্টা করুন প্রথম মেসেজের এর শুরু থেকে আপনি আপনার ওভার অ্যাটিউট পরিহার করে খুব ভালো ভাবে ফ্রেন্ডলি সার্ভিস দেয়ার।
এতে করে আপনার ম্যাচুরিটি এবং প্রফোশেনালিজম ভাবের জন্যই ক্লাইন্ট আপনাকে এক্সট্রা ডলার পে করবেন।
পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই মোটামোটী ইংলিশ এর উপর দক্ষতা রাখতে।
সব সময়ে ট্রান্সলেটর গুলির উপর ভরষা করবেন না এটা আপনার জন্য মঙ্গলজনক।
কারন এগুলি মাঝে মাঝে গ্রামারলি ভুল করে বলে ক্লাইন্ট হাড়াতে পারেন।
২। গিগ টাইটেল তৈরি করুনঃ
প্রোফাইল তো আপনার তৈরি হয়ে গেলো।
 এবার আপনার গিগ তৈরি করা বুঝতে হবে। আর আপনার গিগ সার্চের রেজাল্টে আসবে কিনা এটা নির্ভর করে মূলত গিগ টাইটেল বানানোর উপরে।
আপনার গিগের টাইটেল যদি সুন্দর এবং সঠিক না হয়, তাহলে আপনি যতই ভালো মানের গিগ এর ডেস্কপিশন, গিগ সার্চ এবং গিগ ইমেজ সেট করেন না কেনো আপনি কোন ভাবেই র‍্যাংকে আসতে পারবেন না। 
অর্থাৎ আপনার গিগ সার্চ এর রেজাল্টে আসবে না।
আপনার গিগ টাইটেল বানানোর সময়ে অবশ্যই আপনার গিগ এর কিওয়ার্ডের সাথে মিল থাকতে হবে।
এবং পাশাপাশি আরো ৪টা কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
যেগুলি মেইন কিওয়ার্ডের সাথে রিলেটিভ কিওয়ার্ড হিসাবে ধরা যায়।
আপনি যদি গিগের টাইটেল সেটাপ করেন একটির উপর কিন্তু কিওয়ার্ড দেন অন্য সাব্জেক্ট এর উপর তাহলে সেটি আপনার জন্য ভুল।
এতে আপনি কখনোই আপনার কাংখিত বায়ার খুঁজে পাবেন না।
যেমন ধরুন আপনি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর একটি গিগ বানালেন।
এবং টাইটেল দিলেন ” I will boost your Facebook Business ” এ ক্ষেত্রে আপনার গিগ এর কিওয়ার্ড গুলি ” Facebook Ads, Social Media Marketing, Facebook Boost” এই ধরনের কিওয়ার্ড গুলি দেয়া উচিৎ।
তাই বিষয় গুলি গুছিয়ে আপনি আপনার মেইন গিগ টাইটেল এর সাথে রিলেভেন্ট রাখার চেষ্টা করবেন এতে অনেক বেশি ইম্প্রেশন পাবেন।
গিগ ইমেজ তৈরি করুনঃ গিগ টাইটেল যদিও প্রথম বিষয় কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে, তবে এর পাশা পাশি গিগ ইমেজ টাও অনেক বেশি দরকার।
কারন গিগ টাইটেল র‍্যাংক করে প্রথম রেজাল্টে আসলেই তো ক্লাইন্ট আপনাকে কাজ দিবে না বা কাজ পাবেন না।
তাই এর জন্যই আপনাকে ক্লাইন্টের দৃষ্টি আকর্ষন কিভাবে করা যায় সেটি মাথায় রাখতে হবে। 
এবং এর জন্যই গিগ ইমেজের আর ২য় কোন বিকল্প নেই।
এর জন্য আপনাকে একটি খুব ভালো মানের ইউনিক এবং কপি মুক্ত আপনার গিগ টাইটেল সম্বলিত গিগ ইমেজ ও বানাতে হবে।
আর সেটি যেনো অবশ্যই ইউনিক হয় এবং ক্লাইন্ট যেনো আপনাকে সবার  মধ্য থেকেই বেছে নিতে পারেন।
এতে আপনার কাজের কোয়ালিটি এড করে দিবেন কারন এটিরো কোন বিকল্প নেই।
তবে আমি প্রায়ই দেখেছি অনেকে খুব ভালো কাজ এর কোয়ালিটি করেও প্রায় সময় কাজ পায় না এই গিগ ইমেজের কারনেই।
তাই নিজের কাজ কে খুব ভালো ভাবে প্রজেন্ট করার চেষ্টা করুন।
এতে খুব তারাতারি আপনি ক্লাইন্টের নজরে আসতে পারবেন।
বায়ার রিকুয়েষ্ট দিনঃ
প্রতিদিন ৫টা বা ১০টা করে বায়ার রিকুয়েষ্ট পাঠাতে পারেন।
এর বেশি হলে অনেক সময় ফাইভার ভেরিফিকেশন এর মত ঝামেলা কিংবা একাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারে।
তাই খুব বেশি হলে ১০ টা বায়ার রিকুয়েষ্ট দিয়ে ক্লাইন্টের নজরে আসার চেষ্টা করুন।
ধরুন আপনি যদি ফেসবুক বুষ্ট করতে রাজি আছেন তাহলে যারা ফেসবুক বুষ্ট এর জন্য সেলার খুজছে সেই সব ক্লাইন্ট দের বায়ার রিকুয়েষ্ট করে জানিয়ে দিন যে আপনি তার কাজ টি করে দিতে আগ্রহী।
আর মাঝে মাঝে আপনি গিগ এক্সপ্রিমেন্ট করতে পারেন। সেখানে খেয়াল করবেন আপনার গিগটি আসে কিনা বা আপনার গিগ কত নং এর মধ্যে আছে।
সেই দিক গুলি দেখে একটু গিগ ইমেজ, টাইটেল এগুলি পরিবর্তন করে এক্সপ্রিমেন্ট করতে পারেন।
এভাবেই আপনি ফাইভার থেকে খুব সহজেই আপনি যে ধরনের কাজ জানেন সেই ধরনের কাজ গুলি করে আয় করতে পারবেন।
তো বন্ধুরা আজকের নিবন্ধিত ব্লগটি আপনাদের কাছে কেমন লাগলো সেটি আমাদের জানিয়ে কম্মেণ্ট করতে ভুলবেন না। 
আর আপনি চাইলে এটী বন্ধুদের মাঝেও ভাগ করে নিতে পারেন এতে আপনি ও আপনার বন্ধু ২ জনই খুব ভালো কিছু জানতে পারবেন।

Leave a Comment