ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি আগে যে ৪ টি বিষয় জানা উচিৎ

ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি।

বর্তমান প্রায় সময়ে আমাদের শখ হিসাবে অনেকেই আছি যারা ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকি।
তার জন্য আমরা প্রায় সবাই কম বেশি ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্মকেই বেঁছে নেই।
কারন সাইট বানানোর জন্য আমাদের মতন আমজনতাদের কাছে এই প্লাটফর্ম গুলি অনেক সহজ।
প্রকৃত পক্ষে ওয়েবসাইট এক নিইউবির কাছে অনেক টা স্বপ্নের মত। আর এক জন ডেভ্লোপারের কাছে এটি পেশা।
তাই আমাদের আশে পাশে বন্ধু বান্ধব বা পরিচিত দের অনেকের ওয়েবসাইট আছে দেখেই আমাদেরও তাদের মত ওয়েবসাইট করার শখ আসে বলা যায়।
কিন্তু আমাদের সব সময় ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি গুলি ভালো ভাবে জানা উচিৎ। কারন এগুলি আমাদের ধারোনার বাইরে থাকে বলে আমরা বুঝতে পারি না।

কারন ওয়েবসাইট বানাতে হলে আগে অনেক কিছুই আপনাকে বুঝে নিতে হবে। বিশেষ করে আপনি কি ধরনের ওয়েবসাইট বানাতে চাইছেন তার উপরে নির্ভরশীল বলা যায়।

ওয়েবসাইট তৈরির খরচঃ

ওয়েবসাইট এর খরচ মূলত আপনার কাজের উপর নির্ভর করছে। কারন আপনি ঠিক কি ধরনের ওয়েবসাইট করতে চান তার উপর এটি নির্ভর করছে।
আপনি যদি প্রফেশনাল ভাবে কাজ করতে চান তাহলে আপনি কোডিং করা ওয়েবসাইট নিতে গেলে আপনাকে অনেক বেশি পরিমান টাকা গুনতে হবে।
প্রায় বিষয়টা এমন যে আপনি একটি আলাদা প্লাটফর্ম এর সাইট বানিয়ে নিতে চাচ্ছেন সে ক্ষেত্রে কাজ বিশেষ কোন কোন সময় সাইট বানাতে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৫,৬ লাখ বা তারও বেশী লাগতে পারে।
এর পর আপনি যদি ওয়ার্ড প্রেসে কাজ করতে চান তাহলে আপনাকে ডোমেইন এবং হোষ্টিং কিনে কাজ করতে হবে।
এটি করতেও আপনার প্রায় ১ থেকে ১০ হাজার লাগতে পারে তবে নির্ভর করে আপনি কি ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করে যাচ্ছেন।
এছাড়া আপনি ফ্রি প্লাটফর্ম হিসাবে আপনি চাইলে ডোমেইন কিনে ব্লগার এও ব্লগ সাইট বানিয়ে নিতে পারেন।।
ফ্রিতেই ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাইলে আপনি ব্লগার এর ব্লগস্পট ডোমেইন এ সাইট বানিয়ে নিতে পারেন।।
আপনি যদি চান তাহলে আপনি আমার পুরানো পোষ্ট দেখে নিতে পারেন – ব্লগার ও ওয়ার্ডপ্রেস এর মধ্যে পার্থক্য।
তো বন্ধুরা আশা করি বুঝতে পেরেছেন ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি গুলির জন্য বাজেট কেমন হতে পারে।
তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেই ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতির আগে যে ৪ টি বিষয়।

ডোমেইন নাম পছন্দ করাঃ

আপনি সব সময়ই চেষ্টা করবেন আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য একটি ভালো এবং সুন্দর নাম পছন্দ করার।
পাশাপাশি সব সময়ই ডোমেইন এর নাম টি যেন ছোট হয় তাহলে সেটি অনেক ব্র্যান্ডেবল দেখতে লাগে।
আপনি যদি বড় ডোমেইন নাম পছন্দ করেন তাহলে অর্গানিক তেমন একটা ভিজিটর আসতে চাইবে না।
আপনি যে বিষয় গুলির উপরে সাইট বানাতে যাচ্ছেন চেষ্টা করবেন সেই বিষয়ের উপর ডোমেইন নাম পছন্দ করার।
এবং সেটি যেন আপনার কাজের সাথে মিল থাকে।
এছাড়া আপনি যদি ব্রান্ডেবল ডোমেইন নিতে চান তাহলে আপনি চাইলে কিছু বিশেষ টুল এর সাহায্য নিতে পারেন।
কারন ব্রান্ডেবল  এবং সুন্দর মানের ডোমেইন পাওয়া দুস্কর। তবে আমি আমার ডোমেইন এর বাছাই এর ক্ষেত্রে কিছু টুল ব্যবহার করি।
তো চলুন দেখে নেই টুল সাইট গুলির নামঃ
আপনি যাষ্ট এই সাইট গুলো তে গিয়ে আপনি আপনার নিশ বা টপিক দিয়ে সার্চ দিবেন বাকিটা আপনাকে টুলসই সাজেষ্ট করে দিবে।
তবে মনে রাখবেন ডোমেইন যাই নেন সেটি যেন ভবিষ্যতে বড় করা যায়, এবং সিমিলার টপিক গুলো খুব ভালো ভাবে কভার করতে পারে।
তাছাড়া শুনতে ও দেখতেও ভালো লাগে এমন হলেই আপনি কাজ করে খুব তারাতারি আগাতে পারবেন।

হোষ্টিং সার্ভিসঃ

হোষ্টিং একটি সাইট এর সকল ডাটা বেজ ধরে রাখার জন্য অনেক গুরত্বপূর্ন জিনিস এটি।
তাই চেষ্টা করবেন সব সময়ই আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য ভালো মানের হোষ্টিং কিনে ব্যবহার করতে,কারন ভালো সার্ভিসের জন্য অবশ্যই হোষ্টিং এর স্পীড একটি সাইট এর জন্য গুরত্বপূর্ন বিষয়।
আপনি হয়তো অনেক হোষ্টিং সাইট দেখবেন যারা কম টাকাতে বেশি ষ্টোরেজ দিয়ে থাকে, আপনি তাদের থেকে কখনোই ভালো মানের এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন সার্ভিস পাবেন না।
তাই হোষ্টিং কেনার পূর্বে বেশি দামে যত টুকু দরকার তেমন হোষ্ট কিনবেন। ষ্টোরেজ কম হলেও সমস্যা নেই কারন আপনি সার্ভিস ভালো পাবেন।
তবে হোষ্ট কেনার পূর্বে আপনি হোষ্টিং সার্ভিস দেয় সেই প্রতিষ্ঠান এর সাথে কথা বলে নিবেন।
বিশেষ করা তাদের সার্ভিস এর বিষয়ে কিছু জানা অত্যন্ত জরূরী।
এর মধ্যে তাদের সার্ভার কয়টি, কোন কোন দেশের সার্ভার, পিউর এসএসডি ষ্টোরেজ কিনা, কত টুকু ব্যান্ডিউইথ এগুলি দেখা অনেক বেশি দরকার।
তবে আপনি যদি হোষ্টিং এ টাকা খরচ না করতে চান তাহলে আপনি ব্লগার এর সাহায্য ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।
কারন ব্লগার এর ব্লগস্পট ডোমেইন সারা জীবন ফ্রি, এটির জন্য আনলিমিটেড স্টোরেজ পাবেন, সাইট এর ভিজিটর লোড নিয়ে কোন সময় ভাবতে হবে না।
তো বন্ধুরা আপনি কিসে সাইট বানাবেন এই বিষয়টি আপনার উপরেই ডিপেন্ড করছে।

ওয়েবসাইট এর ডিজাইনঃ

আপনার ওয়েবসাইট কে সুন্দর ও সাবলীল লুক দেয়ার জন্য অবশ্যই আপনি সাইট এর ডিজাউন খুব ভালো ভাবে সাজাবেন।
কারন আপনার ওয়েবসাইট এর ডিজাইন যদি দেখতে ভালো না লাগে তবে আপনার ভিজিটর দের কাছেও সাইট এর প্রধান্য পাবেন না আপনি।
তাই ওয়েবসাইট কে এমন ভালো সাজাবেন যেনো সেটি আপনার ভিজিটরের কাছেও ভালো লাগে।
সাইট এর ডিজাইন করার সময় সাইট এর মেনু বাটন, এডস প্লেসমেন্ট, পেজ সহ প্রতিটা ক্যাটাগরি খুব ভালো ভাবে সাজানোর চেষ্টা করবেন।
আপনি যদি নিজে সাইটের ডিজাইন করতে না পারেন তাহলে প্রোফেশনাল সাইট ডেভ্লোপার দের থেকে সাইট সাজিয়ে নিবেন।
সাইট কে সাজানোর সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন সেটি হলো-
  • সাইট রেসপন্সিভ কিনা।
  • সাইট এর লোডিং স্পিড কেমন।
  • সাইট অপ্টিমাইজ কিনা।
মোটামোটি এখানের উপর এর এই ৩ টি বিষয় ঠিক ঠাক করলেই আপনার জন্য যথেষ্ট।

এসইও কন্টেন্টঃ

আপনি যদি আপনার সাইটে কন্টেন্ট পাব্লিশ করে থাকেন তাহলে সে কন্টেন্ট গুলিকে অবশ্যই আপনাকে এসইও করতে হবে।
কিভাবে এসইও করবেন সেটি জানতে ভিজিট করুন ঃ SDewery Official
আপনি যদি আপনার কন্টেন্ট গুলো কে কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট করে খুব সুন্দর ভাবে মান-সম্মত ভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজ করতে না পারেন তাহলে আপনার কন্টেন্ট কেউ দেখতে পারবে না।
এর ফলে আপনার ওয়েবসাইটে আপনি প্রোপারলি ভাবে ভিজিটর আনতে পারবেন না।
আপনার সাইটে ভালো ভিজিটর নিতে হবে অবশ্যই আপনাকে পোষ্ট বা সাইট এসইও করতে হবে তাহলে আপনার ওয়েবসাইট গুগলে র‍্যাংক করবে এবং ভালো ভিজিটর পেয়ে যাবেন।
পাশাপাশি সাইট এর জন্য অফ পেইজ এসইও করতে হবে আপনাকে এবং অফ পেই এসইও এই কাজ টি আপনাকে প্রতি দিন আস্তে আস্তে করতে হবে।
এক সাথে অফ পেইজ এসইও তে খুব তারাতারি আগাতে চাইলে যে কাজ গুলো করবেন গুগল আপনাকে স্প্যামিং করছেন ভেবে পেনাল্টি দিয়ে দিতে পারে তাই ভেবে চিনতে কাজ করতে হবে।
তো বন্ধুরা এই ছিলো আজকের ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি গুলোর ব্যাসিক ৪ টি ধারনা।।
তাই যারা ওয়েবসাইট বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা অবশ্যই উপরের বিষয় গুলি খুব ভালো ভাবে আয়ত্ত করে নিবেন।।

পরিশেষে ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি প্রসঙ্গে।

আমি সব সময় চেষ্টা করি আপনাদের নতুন কিছু জানাতে। তাই আজকের টিউন আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে এই বিষয় টি জানিয়ে আপনি চাইলে নিচের কম্মেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না।
আর যেকোন সময় ব্লগিং এর যেকোন সমস্যায় আপনি চাইলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment