ব্লগারে সঠিক ভাবে পোষ্ট করার নিয়ম গুলি কি?

ব্লগারে সঠিক ভাবে পোষ্ট….

আমাদের যাদের ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেসে একটি ব্লগ সাইট থাকে তাদের মধ্যে আমরা অনেকেই কনফিউশনে থাকি যে ঠিক কিভাবে আমরা আমাদের ব্লগিং শুরু করবো।

এই বিষয় টি নিয়ে আমরা অনেকেই সঠিক ভাবে ধারনা পাই না বলেই আমরা আমাদের কাজের প্রতি আস্থা হাড়িয়ে ফেলি কিংবা অনেকেই মাঝ পথে ব্লগিং ছেড়ে দেই।

আপনি যদি সেই গ্রুপের হয়ে থাকেন তাহলে আজকের ব্লগ আর্টিকেল টি অবশ্যই আপনার জন্য, আশা করি এই আর্টিকেল থেকে আপনি খুব সহজেই পুরোপুরি না হলেও মোটামোটি একটি ধারনে পেয়ে যাবেন এবং আপনি খুব সহজেই জানবেন ব্লগারে সঠিক ভাবে পোষ্ট করার নিয়ম গুলি কি।

তো চলুন কথা না বাড়িয়ে দেখে নেয়া যাক কি কি কাজ গুলো করতে হয়।

ব্লগারে সঠিক ভাবে পোষ্ট করার নিয়ম গুলি কি?

তার আগে বলি আপনি যদি একজন নতুন ব্লগার হয়ে থাকেন তাহলে এখান থেকে মোটামোটি একটা ধারনা পাবেন যেটি আপনার একজন এডভান্স লেভেলের ব্লগার তৈরী করতে সাহায্য করবে।।

কন্টেন্ট এর উপর ধারনাঃ ব্লগিং বর্তমানে একটি লাভ জনক পেশা বলেই মোটামোটি সবাই এটি নিয়ে কাজ করতে চাই কিন্তু কি নিয়ে কাজ করবো কি লিখবো?

এই ধরনের কনফিউশন থেকেই যায়।
তাই তাদের কে আমি বলি আপনি যে বিষয়ে এক্সপার্ট সেই বিষয়ে লিখতে থাকুন। আপনি যদি ফ্যাশন নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে সেটি নিয়ে কাজ করুন তবে প্রথমেই আপনি কি ধরনের কন্টেন্ট লিখতে পারবেন এবং কোন বিষয়ের উপর লিখবেন সেটি পছন্দ করুন।

এটি আপনাকে অনেক বেশি সাহয্য করবে আপনার কন্টেন্ট লেখার বিষয়ে।

কারন আপনি ব্লগিং যখন করবেনই আপনি যদি সঠিক ধারনা নাই জানেন তাহলে কি লিখবেন আর পাঠকেই বা কি বুঝাবেন ? তাই অবশ্যই কন্টেণ্টের ধারনা নিন।

লেবেল বাছাই করুনঃ আপনি যে বিষয়ে লিখতে চান সেটির উপর একটি লেবেল বাছাই করবেন অবশ্যই। 

আপনি যদি ফেসবুক নিয়ে লিখেন তাহলে একটি লেবেল তৈরি করবেন ফেসবুক এর উপরে এটি আপনাকে ব্লগের ক্যাটাগরি হিসাবে বিভক্ত বা চিহ্নিত করতে পারবে।।

এবং পাঠকের কাছেও বুঝতে সুবিধা হবে যে আপনি ফেসবুক এর উপরে কন্টেন্ট পাব্লিশ করতে যাচ্ছেন।

কিওয়ার্ড বাছাই করুনঃ কিওয়ার্ড এটি একটি ব্লগের জন্য সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ন। 

আপনি যদি ব্লগ পাব্লিশ এর আগে সঠিক ভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ নাই করতে পারেন তাহলে আপনি খুব বেশি দিন ব্লগিং এ টিকবেন না আপনাকে সোশ্যাল শেয়ার এর উপরেই ভরসা করে চলতে হবে।

এই কিওয়ার্ড রিসার্চ করেই পোষ্ট বা আর্টিকেল লিখাকে বলা হয় অন পেইজ এসইও।

তাই চেষ্টা করবেন প্রথম অবস্থাতে আপনি যখন ব্লগ লিখবেন গুগলে প্রচুর কিওয়ার্ড রিসার্চের সাইট পাবেন সেখান থেকে সার্চ ভলিউম দেখে আপনার নিশ বা কাজের ব্লগ টির উপরে কিওয়ার্ড চুজ করে কাজ করার। এতে আপনি প্রচুর পরিমানে অর্গানিক ট্রাফিক পাবেন।

কারন ট্রাফিক ছাড়া একটি সাইট মরা গাঙ এর মত।

ইউজার ফ্রেন্ডলি এসইও পোষ্ট তৈরী করুনঃ সব সময় চেষ্টা করবেন আপনি যে পোষ্ট বা আর্টিকেল টিকে লিখেছেন তার গ্রামাটিক্যাল ভুল, এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি কিনা।

আপনি যা লিখছেন সেটি আপনার পাঠক কততুকু বুঝতে পারছে কিংবা আপনার পাঠকের কাজে আসছে কিনা এই বিষয় গুলি কে অবশ্যই খেয়াল করতে হবে।

গ্রামাটিক্যাল ভুল থাকলে ট্রাফিক লস হতে পারে কারন আপনার কন্টেন্ট এর মূলত বিষয় পাঠক বুঝতে না পারলে আর্টিকেল স্কিপ করে অন্য পেজে চলে যাবে।

হেডিং বা টাইটেল ব্যবহার করতে হবেঃ পোষ্ট গুলি পাব্লিশ করার সময় অবশ্যই আপনি একটি হেডিং বা টাইটেল যোগ করবেন। 

এতে পাঠক আপনার পোষ্টের মূল বিষয় তারা তারি ধরতে পারবে এবং কৌতুহল থেকে হলে পাঠক আপনার পোষ্ট টীকে পড়বে এবং গুরুত্ব দিবে। 
তাই যে কোন পোষ্টে টাইটেল বা হেডিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং এটি অন পেইজ এসইও এর একটি অংশও বটে।
ইউনিক ইমেজ ব্যবহারঃ আপনি পোষ্ট লিখার সাথে সাথে একটি ইউনিক ইমেজ বাছাই করবেন। 
এবং সব সময় চেষ্টা করবেন পোষ্ট বা আর্টিকেল এর সাথে মিল রেখে একটি ইউনিক ইমেজ ব্যবহার করার।
ইউনিক ইমেজ ব্যবহার এ আপনার আর্টিকেল বা পোষ্ট কে গুগল বা যেকোন সার্চ ইঞ্জিন অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং পাঠক ও বেশ আকৃষ্ট হয়েই আপনার আর্টিকেল রিড করবে।

চেষ্টা করুন নিজে এডিট করে একটি ইউনিক লেভেলের ইমেজ তৈরী করার, কারন আপনি যদি সাইট থেকে ইনকাম চান এডসেন্স ব্যবহার করতে চান তাহলে ইউনিক ইমেজ তৈরী অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন।

নয়ত আপনি যখনই গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করবেন তখনই পলিসি ভায়লেন্স এর মত ইস্যু এসে পরতে পারে।

ইমেজে ALT এর ব্যবহারঃ প্রতিটা পোষ্ট বা আর্টিকেলে ব্যবহৃত ইমেজের অল্টার ইমেজ অপশন থেকে এটি লিখবেন। 

পোষ্টের রিলেটেড কিওয়ার্ড বা কি বিষয়ে আর্টিকেল সেটিকে ALT ইমেজে প্রকাশ করুন। এটা এসইওইর জন্য অনেক বেশি ইফেক্টিভ।

এবং প্রতিটা ইমেজের নিচে এর ক্যাপশন ব্যবহার করুন।

গুগলে ইন্ডেক্স করুনঃ আমরা যারা ব্লগিং করি বা আপনারা যারা ব্লগিং করবেন তাদের অবশ্যই গুগলের ইন্ডেক্সিং বিষয় টি জানা জরুরী। 

কারন গুগল ইন্ডেক্সের মাধ্যমে আপনার লেখা টি স্বার্বজনীন প্রকাশিত হয় এবং গুগল এ আপনার সাইট টি লাইভ হয়

তাই প্রতিটা পোষ্ট বা আর্টিকেল গুলি প্রকাশ করার পরে েকে ম্যানুয়ালি একবার ইন্ডেক্স করে দিন। 
কারন অটো ইন্ডেক্স সেটাপ করলেও সেটি ইন্ডেক্স হতে কিছুটা সময় নিবে হয়তো।

পার্মালিংক সেটাপঃ যারা নতুন থাকেন তারা অনেকেই ব্লগারের পার্মালিংক এর গুরুত্ব বুঝেন না। 

যার জন্য পার্মালিংক সেটাপ না করেই ডিরেক্টলি পোষ্ট কে ইন্ডেক্স করে ফেলেন। 
আবার পরবর্তীতে এসে সেই পোষ্ট এর পার্মালিংক সেটাপ করেন যার জন্য সাইটে একটি ব্রোকেন লিংক তৈরী হয়।
যার ফল স্বরূপ সাইটের র‍্যাঙ্কিং টা গুগল থেকে হাড়িয়ে যায় এবং গুগলও একে বেশি প্রধান্য দেয় না।

ব্যাকলিংক তৈরি করুনঃ আপনি যখন একটি সাইট পাব্লিশ করবেন তখন মনে রাখবেন এটি একটি লং টাইম জব ওয়ার্ক। 

এখানে টিকে থাকতে আপনার আর্টিকেল পাব্লিশের পাশাপাশি অন্য সাইটের সাথে আপনার কম্পিটিশন হবে।
সেই সকল সাইট এর থেকে বেশি ব্যাকলিংক করতে হবে। 
তবে অবশ্যই আপনার নিশ রিলেটেড সাইটের সাথে ব্যাকলিংক করবেন । 
তবে যে সকল সাইট থেকে ব্যাকলিংক নিবেন সেই সকল সাইট এর ডোমেইন অথোরিটি চেক করে এর পর নিবেন। 
যেখান সেখান থেকে ব্যাকলিংক নিলে সেটি আপনার সাইটের জন্য ক্ষতি ছাড়া উপকার হবে না। কারন এতে সাইটের স্প্যাম স্ক্রোর বাড়তে পারে এবং শাস্তি হিসাবে গুগল পেনাল্টি দিবে।

কম্পিটরকে এনালাইসিস করুনঃ সব সময় চেষ্টা করবেন আপনি যে বিষয়ে লিখছেন সেই বিষয়ে আপনার আগেই যারা লিখে আছে তাদের থেকে বেটার কিছু লিখার জন্য।

তাদের থেকে বেশি শব্দ এড করুন।
ঠিক ঠাক ভাবে আপনি সেই নিশ এর কিওয়ার্ড প্লেস মেন্ট করে পোষ্ট পাব্লিশ করুন। 
কোন কোন কিওয়ার্ডে কম্পিটিটরের পোষ্ট র‍্যাংক করেছে সেটি আয়ত্তে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করুন।

আশা করি আজকের বিস্তারিত আলোচিত বিষয় গুলি আপনি খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছেন।
কারন ব্লগিং যেমন সহজ তেমনি টিকে থাকতে গেলে অনেক কঠিন। 

তাই এই বিষয় গুলি বুঝে শুনে ব্লগিং করতে হবে।

তো বন্ধুরা যদি আজকের এই বিস্তারিত আলোচনার বিষয়টি আপনাদের সাহায্য করে থাকে তাহলে নিচের কম্মেন্ট বক্সে আপনি আপনার মুল্যবান কম্মেন্ট জানাতে ভুলবেন না। 

আর ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন এতে আপনি সহ আপনার বন্ধুরাও সাহায্য পাবে আশা করি।
আবারো দেখা হবে আমার পরের ব্লগে, তাই পাশেই থাকুন আপনার নিজের ব্লগে সব সময়েই স্বাগতম।

Leave a Comment