পুরানো ল্যাপটপ কেনার আগে কি কি দেখবেন?

পুরানো ল্যাপটপ কেনার আগে কি কি দেখবেন?

হাই বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন, আশা করি সবাই আছেন ভালো।

তো আজকের পোষ্টের হেডিং বা টাইটেল দেখে হয়তো বুঝে গেছেন আজকের পোষ্ট গুলি কি নিয়ে লিখতে যাচ্ছি।

হ্যা বন্ধুরা আজকে আমি আপনাদের সাথে পুরানো ল্যাপটপ কেনার পূর্বে যে সকল বিষয় গুলি খেয়াল করা উচিৎ সে বিষয় গুলি দেখব।

পুরানো ল্যাপটপ কেনার আগে কি কি দেখবেন?

তো চলুন সময় নষ্ট না করে জেনে নেই আজকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু।

কেনো আমরা পুরানো ল্যাপটপ কিনি?

আমরা যারা পুরানো ল্যাপটপ কিনে থাকি তারা অনেক টা অসহায় কিংবা কম বাজেটেই কিনে আমাদের সাধ্য আর শখ পূরন করার জন্য পুরানো ল্যাপটপ গুলো কিনে থাকি।

বাজেট সল্পতা আমাদের শখের উপর এক ধরনের বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বলেই আমরা পুরানো ল্যাপটপ কিনে থাকি।

কিন্তু পুরানো ল্যাপটপ গুলি তে থাকে নানা বিধ সমস্যা যেগুলিয়া আমাদের জানা সত্তেও আমরা কম টাকায় একটি ল্যাপটপ কিনে থাকি।

তবে আমরা এটাও জানি যে এটা কি রকম সার্ভিস আমাদের দিবে।

সব কিছু জানার পরেও যখন শখ করেই একটা ল্যাপটপ নিয়ে থাকি তখন অবশ্যই কিছু বিষয় দেখে শুনে কিনবেন।

ল্যাপটপ কেনার পূর্বে কি কি খেয়াল করতে হয়?


১।  ল্যাপটপের ডিস্প্লেঃ ল্যাপটপ কেনার পূর্বে অবশ্যই এর ডিস্প্লে খুব ভালো ভাবে খেয়াল করবেন। মনিটরে কোন প্রকার দাগ আছে কিনা, মনিটর এর নেগেটিভ দেখা যায় কিনা, মনিটর এর পাশে কালো কিছু নাকি সাদা কোন দাগ আছে কিনা। 

এ সব বিষয় গুলি ভালো ভাবে দেখতে হবে।

তাছাড়া মনিটর পরিবর্তিত হলে সেই ধরনের ল্যাপটপ কেনা থেকে দূরে থাকা ভালো।
কারন ধরনের ল্যাপটপ বিভিন্ন রকমের সমস্যা শুরু হতে বেশি সময় নিবে না।

২। প্রসেসর খেয়াল করুনঃ আপনি কি ধরনের ল্যাপটপ ক্রয় করতেছেন সেটির কনফিগার কি এটা খেয়াল করুন। নেট থেকে এর রিভিউ দেখে নিন।

প্রসেসর পুরানো হলে আপনি সাপোর্ট কম পাবেন ,যেকোন কাজের জন্য খুব স্লো কাজ করবে আপনার ল্যাপটপ টি। 

বিশেষ করে যারা ফ্রিল্যান্সিং করবেন তাদের এই বিষয় টি নিশ্চিত হয়ে নেয়া উচিৎ হবে।

৩। ল্যাপটপের ব্যাটারী ব্যাকাপঃ ল্যাপটপ এর ব্যাটারী ব্যাকাপ নিশ্চিত হবে নিবেন। এটি কত সময় চলবে সেই বিষয় টি নিশ্চিত হতে হবে। 

এছাড়া অনেক সময় যারা পুরানো ল্যাপটপ বিক্রি করেন তারা ২ টি সেল থাকলে একটি খুলে রেখে দেয় যেটি খুব তারাহুরো করলে ধরতে পারবেন না। 

তাই যখন ল্যাপটপ দেখা শুরু করবেন তখনই এর চার্জ ব্যাকাপ কেমন আছে সেইটি খেয়াল করুন।

এতে আপনি যত সময় ধরে ল্যাপটপ দেখবেন তত সময় চার্জ কত টুকু ড্রপ করছে সেটি বুঝতে পারবেন।

তবে পূরানো ল্যাপটপ গুলির ক্ষেত্রে মিনিমাম ৩ ঘন্টা ব্যাকাপ পাওয়া যাবে সেটি নিশ্চিত করে নিন।

৪। ল্যাপটপ পোর্ট চেকঃ ল্যাপটপের প্রতিটি পোর্ট খুব ভালো ভাবে চেক করে নিবেন। অনেক সময় পুরানো ল্যাপটপ এর পোর্ট গুলি ঠিক মতন কাজ করে না। 

এ ধরনের ল্যাপটপ এড়িয়ে চলা আপনার জন্য বেটার হবে।

আবার অনেক সময় যারা বিভিন্ন দোকান থেকে পুরানো ল্যাপটপ গুলি কিনতে চাই তারা এ বিষয় টি ভালো ভাবে দেখবেন কারন অনেক দিন পুরানো ল্যাপটপ ব্যবহারের ফলে ল্যাপটপ এর পোর্ট গুলি জং ধরে যায়।

তাই এটি ভালো ভাবে লক্ষ্য পূর্বক পুরান ল্যাপটপ ক্রয় করবেন।

৫। বিল্ড ড্রাইভ বা পার্ট চেকঃ পুরানো ল্যাপটপ গুলিতে বিল্ড ড্রাইভ চেক করবেন বিশেষ করে ব্লু টুথ ড্রাইভ কিংবা ওয়াইফাই ড্রাইভ গুলি। 

কারন বিভিন্ন পুরানো ল্যাপটপ বিক্রেতারা এই পার্ট গুলি আলাদা করে বিক্রির উদ্দেশ্যে খুলে নিতে পারে। তাই এই বিষয় গুলি কে একটু বেশি করে চেক করবেন।

৬। সাউন্ড কোয়ালিটি চেকাপঃ পুরানো ল্যাপটপ গুলির সাউন্ড কোয়ালিটি চেক করবেন সব সময়। 

সাউন্ড বেশি শুনতে খারাপ লাগলে সে ধরনের ল্যাপটপ বাই করা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন।

৭। কিবোর্ড চেকঃ পুরানো ল্যাপটপে কিবোর্ড গুলি তে সমস্যা থাকতে পারে অনেক সময় এটি কাজ নাও করতে পারে, তাই বসে একটু ধর্য্য নিয়ে ল্যাপটপের প্রতিটা কিবোর্ড প্রেস করে কিবোর্ড কে চেক করে দেখার চেষ্টা করবেন।

৮। ট্রাকপ্যাড চেকঃ পুরানো ল্যাপটপ গুলি ট্রাকপ্যাড খুব ভালো ভাবে দেখবেন। 

মাউস কেমন ধরনের রেস্পন্স করছে সেটি নিশ্চিত হয়ে নিন।


পরিশেষে বলি উপরের এই বিষয় গুলি প্রধান্য দিলেই আপনি আপনার কিনতে চাওয়া ল্যাপটপ এর সব কিছু বুঝতে পারবেন। 
যেহেতু আপনি আপনার নিজের জমানো টাকায় শখ করে ল্যাপটপ কিনবেন সেহেতু অবশ্যই দেখে শুনে ল্যাপটপ বাই করবেন ধৈর্য্য নিয়ে, এতে কোন দ্বীধা না করাই আপনার জন্য বেটার।

পুরানো ভালো মানের ল্যাপটপ কোথায় পাবেন?

বর্তমানে বাজারে প্রচুর ভালো মানের পুরানো ল্যাপটপ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার আইডিবি ভবন বা মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সেন্টার অন্যতম। 
বসুন্ধুরা থেকেও প্রচুর ল্যাপটপ পাবেন। আবার কিছু আছে মিরপুর গোল চত্তরে।

এখানে আপনি আপনার বাজেট এর বেষ্ট ল্যাপটপ টাই পেয়ে যাবেন। 

তাই হাতে প্রচুর সময় নিয়ে এ সব জায়গা থেকে আপনার পছন্দের ল্যাপটপ গুলি কিনতে পারেন।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন, আর ভাবছেন আমি কিভাবে এ গুলো বললাম কারন আমি নিজেও পুরানো ল্যাপটপ কিনেছি আমার ফ্রিল্যান্সি কাজের জন্য।

 আজকের পোষ্ট টি হয়তো আপনার বেশ কাজে আসবে, কারন আমি চেষ্টা করেছি যত গুলি দিক খেয়াল করা উচিৎ আমাদের সে বিষয় গুলির উপর খুব ভালো বুঝিয়ে দেয়ার।
যদি আজকের আর্টিকেল টি আপনার কাজে আসে তাহলে আপনি বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নিন, এতে আপনি সহ আপনার বন্ধুরাও হেল্প পাবে আশা করছি এবং যেকোন মন্তব্যের জন্য নিচের কম্মেন্ট বক্সে আপনি আপনার মন্তব্য আমাকে জানাবেন।

Leave a Comment