গুগল এডসেন্স এপ্লাই করতে কি কি করবেন।

গুগল এডসেন্স এপ্লাই করতে কি কি করবেন।

হাই বন্ধুরা আপনাদের আবারো স্বাগতম আপনাদের পছন্দ ব্লগ টিপস২হাব এ । আমরা আবারো এসেছি আপনার জন্য নতুন একটি টিপস নিয়ে। 
কারন এই টিপস টি আপনাদের মধ্যে যারা ব্লগি করেন তাদের সবারই কম বেশি দরকার হচ্ছে।
আর আপনারা এতো ক্ষনে হয়তো বুঝেই গেছেন আজকের বিস্তারিত পোষ্টের হেডিং বা টাইটেল দেখে।
কারন গুগল এডসেন্স হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে বড় বিজ্ঞাপন এর মার্কেট। 
আর এখান থেকেই প্রতিদিন হাজারো মানুষ টাকা ইনকাম করে আসতেছে। 
যার কারনেই সবাই ব্লগিং এর দিকে ঝুকে পড়ছে।
আরেকটি বিষয় আপনাদের এবং আমাদের সবার জন্যই যে বর্তমানে বাংলাদেশে যারা বাংলা তে ব্লগিং করছে তারা সবাই অনেক বেশি পরিমানে ছিপিসি পাচ্ছে।
এর কারন হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান গুগলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এবং এতে আশা করা যাচ্ছে আগামী দিনে অনেক ভালো পরিমান এ আর্নিং করা যাবে বাংলাতে ব্লগিং করেও।
তাই আপনি যদি এখন নতুন ব্লগার হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে ব্লগিং এর বিষয়ে আইডিয়া থাকতে হবে।
আর একজন ভালো মানের ব্লগার খুব সহজেই এডসেন্স এর জন্য কাজ করে বেশ ভালো ইনকাম করতে পারে।
তো বন্ধুরা চলুন আর কথা না বাড়িয়ে দেখে নেই গুগল এডসেন্স এপ্লাই করতে কি কি করতে  হয়।

গুগল এডসেন্স এপ্লাই।

গুগলে এডসেন্স এপ্লাই করা জন্য আপনাকে বেশ কিছু রুলস মানতে হবে। পাশাপাশি আপনার জানতে হবে ঠিক কোন কারনেই গুগল আপনার এডসেন্স কে রিজেক্ট করতে পারে।
ঠিক কোন কোন কাজ গুলো আপনি করলে পারফেক্ট ভাবে গুগল এর এডসেন্স পেয়ে যাবেন চলুন সেটি দেখে নেই…
১। কপি কন্টেন্ট করতে পারবেন না।
কন্টেন্ট কে পিলার বা কিং বলা হয়ে থাকে। 
কারন আপনি যত ভালো কন্টন্ট লিখবেন তত বেশি চান্স থাকবে গুগলে এডসেন্স এর এপ্রোভাল পাবার জন্য। 
তবে আপনি যদি কোন প্রকার কপি কন্টেন্ট লিখে থাকেন তাহলে সে ক্ষেত্রে গুগলে এপ্রোভ আপনি কখনোই পাবেন না।
তাই চেষ্টা করবেন সব সময় ইউনিক আর্টিকেল লিখার জন্য। 
আর যারা কন্টেন্ট রাইটার ভাড়া করে আর্টিকেল লিখিয়ে নেন, তারা সব সময় অই আর্টিকেল কে Duplicheker OR SmallSeoTools এর মত সাইট গুলি থেকে আপনার আর্টিকেল গুলি কে চেক করে নিবেন।
২। থীন কন্টেন্ট পাব্লিশ থেকে দূরে থাকুন।
আপনি যখন একটি আর্টিকেল লিখবেন অবশ্যই সেই আর্টিকেল টি যেনো ৩০০ শব্দের বেশি হয়। 
আর মিনিমাম সব সময় ৭০০-১০০০ বা তারও বেশি শব্দের মধ্যে আর্টিকেল পাব্লিশ করুন।
কারন ছোট আর্টিকেল পাব্লিশ করলে আপনি যখন এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করবেন এটি আপনাকে নো কন্টেন্ট ইনভেন্টরি দেখি এডসেন্স এপ্রোভাল রিজেক্ট করে দিবে। কারন এটিকে বলা হয় থীন কন্টেন্ট।
তাই সব সময় আর্টিকেল গুলির মেইন সাব্জেক্ট নিয়েই আলাপ কউন এতে গুগল আপনার কন্টেন্ট কে ভ্যালু দিবে।
৩। রেসপন্সিভ থীম ও ডিজাউন। 
সব সময় সাইটে ভালো ডিজাইন ব্যবহার এর পাশাপাশি খেয়াল করুন আপনার ডিজাইন যেনো রেসপন্সিভ থাকে।
এখানে রেসপন্সিভ বলতে বুঝানো হয়েছে আপনার সাইট যেনো ট্যাব, মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে সব ডিভাইসে খুব ভালো ভাবে মানিয়ে নিতে পারে।
সাইটের ডিজাইন এডসেন্স এর জন্য আরেকটি মূল বিষয় তাই ভালো মানের ফ্রেশ থীম ব্যবহার করুন।
তবে প্রচুর কালার বা হিজিবিজি ধরনের ডিজাইন গুলি কে এভোয়েড করে চলা টাই বেটার। 
এগুলি একটি সাইটের হেলথ কমিয়ে দেয়। 
যার কারনে সাইট অনেক ভারী আর ল্যাগ মনে হয়।
আরেকটি বিষয় এডসেন্স আপনি যেকোন ধরনের থীমে পেয়ে যাবেন তবে কোন ফাষ্ট থীম ব্যবহার করাই উত্তম।
৪। গুরুত্বপূর্ন পেজ এড্ড করুন।

আপনি যখন সাইট ডিজাইন করবেন তখনই সাইটের ফুটার বা হেডারে যেখানে পেজ এডড করার জায়গা আছে সেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ন পেজ এড্ড দিন।
যেমন – 
  • Privacy Policy
  • Terms & Conditions
  • About Us
  • Contact Us.
এখানে মূলত এই ৪ টাই যথেষ্ট। এর বেশি চাই আপনি এডড করে নিতে পারেন।
এবার বলি এগুলাতে কি লিখতে হয়?
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি এই প্রশ্ন গুলি সোশ্যাল মাধ্যমের গ্রুপে বেশি পোষ্ট করি।
কিন্তু এগুলি বানানো একদম সহজ।
আপনি গুগলে এযে সকল প্রাইভেসি পলিসি পেজ জেনারেটর পাবেন সেগুলি থেকেই অটো জেনারেট করে ব্যবহার করতে পারবেন।
এগুলো যদিও কপি তবে গুগল এগুলো কে ধরবে না।
আর যদি আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্লগ ক্রিয়েট করে থাকেন তাহলে বলবো ম্যানুয়ালি করতে।
কারন প্রাইভেসি পলিসি হচ্ছে আপনার সাইট কিভাবে অন্যের কাছে তুলে ধরছেন এবং আপনার গোপনীয়তা কি।
টার্মস এন্ডকন্ডিটিশন হচ্ছে আপনার ভিজিটর কি কি করতে পারবেন আপনার সাইটে।
আর এবাউট এ আপনি আপনার ডিটেইলস বা সাইটের ডিটেইলস দেয়ার চেষ্টা করুন। এতে গুগল খুব সহজেই সাইটের বিবরন বুঝতে পারে।
আর কণ্টাক পেজ রাখার কারন হচ্ছে আপনি আপনার ভিজিটর এর সাথে যুক্ত এবং তাদের কেয়ার নিচ্ছেন। তাদের সাথে যোগাযোগ রেখে আপনি কাজ করছেন তার মানেই হচ্ছে আপনি অথেন্টিক একজন কাজের ক্ষেত্রে। আর এগুলা দেখলেই গুগল খুব তারাতারি রেস্পন্স করে গুগল এডসেন্স এপ্রোভাল করে দেয়।

৫। গুগল সার্চ কনসোলে সাইট এড করুন।
আপনার সাইট রেডি,পোষ্ট বা কন্টেন্ট রেডি এবার আপনাকে গুগল এর সার্চ কনসোলে সব ইউ আর এল গুলি কে এডড করে নিতে হবে।
তবে প্রথমেই সাইটে এর ডোমেইন এডড করে এর প্রোপার্টি ভেরিফাই করে নিন।
এর পর সাইট ম্যাপ ক্রিয়েট করুন। কারন সাইটম্যাপ এড্ড করার পরই আপনার পোষ্ট গুলি গুগলে লাইভ হতে শুরু করবে।
যে গুলো লাইভ হতে দেরী করতে পারে সে গুলি কে ম্যানুয়াল্লি ইন্ডেক্স করে দিন।
মোটামোটি ৩০ টার বেশি কন্টেন্ট পাব্লিশ করবেন তবে ১ দিনে ৩০ টা কন্টেন্ট লিখে পাব্লিশ করবেন না।প্রতিদিন একটা একটা করে বা প্রতিদিন ২,৪ করে কন্টেন্ট লিখে পাব্লিশ করে গুগল সার্চ কনসোলে ইন্ডেক্স করবেন।
৬। কাস্টম ডোমেইন নিন।
আপনি যদি ব্লগার থেকেই আপনার সাইটে এডসেন্স পেতে চান তাহলে আপনাকে প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস এর মতন সময় নিয়ে ব্লগিং করতে হবে।
আপনি যদি এর থেকে কম সময়ে এডসেন্স পেতে চান তাহলে যেকোন একটি টপ লেভেলের ডোমেইন এড্ড করে গুগল সার্চ কনসোলে ভেরিফাই কর এনিন।
টপ লেভেলের ডোমেইন গুলির মধ্যে .com , .me, .net ,info এ এগুলি সবই টপ লেভেলের ডোমেইন।
যদিও এই ধরনের ডোমেইন এড করেই এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করা যেতে পারে তবে আপনি চেষ্টা করবেন ডোমেইন এডড করার ১ মাস সময় নিয়ে এডসেন্স এর এপ্লাই করার জন্য।
৭। কপিরাইট যুক্ত ছবি ব্যবহার না করাঃ

কপিরাইট ফ্রি কন্টেন্ট লেখার পাশাপাশি কপিরাইট ফ্রি ইমেজ এর দিকেও লক্ষ্য রাখবেন। কারন বেশির ভাগ মানুষই আছেন যারা গুগল থেকে ছবি নিয়ে এডিট করে কন্টেন্ট পাব্লিশ করেন।
যার কারনেই ইউনিক কন্টেন্ট হলেও গুগল কপিরাইট ইস্যু তে রিজেক্ট করে দেয়।
আপনি কপিরাইট ফ্রি ফটোর জন্য পিক্সেল ল্যাব, পিক্সাবাই এর মত সাইটের সাহায্য নিতে পারেন।
তবে চেষ্টা করবেন।
তবে আমার মতে সরাসরি ব্যবহার না করে এডিট করে ব্যবহার করা উত্তম।
৮। ১৮ কোন লেখা পাব্লিশ করা যাবে না।
গুগলে ১৮+ নিয়ে লেখা লেখি পছন্দ করে না তাই এই ধরনের কন্টেন্ট পাব্লিশ করলে ভিজিট পাবেন ঠিকই তবে কোন এডসেন্স পাবেন না।
মাঝে মাঝে গুগল থেকে এই ধরনের সাইট খোলার জন্য পেনাল্টিও খেতে পারেন।
৯। দুই ভাষাতে ব্লগিং করবেন্না।

আমরা অনেকেই আছি যারা মাঝে মাঝে একসাথে ২ ভাষাতে ব্লগিং করি।
মানে এটাই যে অনেকেই আছেন যারা বাংলা আবার ইংলিশ এ ব্লগিং করেন তারা এই কাজ গুলো করবেন না।
যদিও গুগল বর্তমানে ৪৫টির বেশি ভাষা এলাউ করছে।
তাই সমস্যা নেই তেমন একটা। তবে এটা ভিজিটর দের কাছে বিরক্তিকর লাগে ।।
এই গুলি ঠিক ঠাক ভাবে মাথায় রেখে কাজ করলেই আপনি গুগলের এডসেন্স এপ্রোভাল পাওয়া যাবে।।
আজকের এই পর্যন্তই তাহলে আশা করি খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছেন…
আজকের পোষ্ট ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। কিংবা কম্মেণ্ট করতে পারেন। আর এডসেন্স নিয়ে সমস্যা থাকলে জানাতে পারেন।। আমি চেষ্টা করবো আপনার সমস্যা সমাধান করে দিতে।

3 thoughts on “গুগল এডসেন্স এপ্লাই করতে কি কি করবেন।”

  1. মাশাল্লাহ। ভাই খুব ভালো পরামর্শ দিছেন। আমার একটা প্রশ্ন আছে, সেটা হলো, কনটেন্ট যদি ২ পার্সেন্ট কপি হয় সেই ক্ষেত্রে কি কোনো সমস্যা হবে?
    আর, ব্লগার এর লেভেল গুলা মেনু তে অ্যাড করলে কি কোনো সমস্যা হবে?

  2. ভাই কপি কন্টেন্ট কখনোই ব্যবহার করার জন্য আমার সাজেষ্ট কাম্য নয়!!
    তবে এডভান্স লেভেলের কিছু বিষয় বুঝতে পারলে কপি করে এডসেন্স পাওয়া যায়!!
    না ব্লগারের লেভেল রাখা ইমপর্ট্যান্ট!!

Leave a Comment