অ্যালোভেরা এর গুনাগুণ এবং এর ব্যবহার।

অ্যালোভেরা এর গুনাগুণ এবং এর ব্যবহার।


কেমন আছেন সম্মানীত ভিজিটর গন,আশা করি সবাই ভালো আছেন,আজকের এই পূর্ন নিবন্ধন টি অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী এর বিষয়ে বিস্ময়কর উপকারীতা গুলি নিয়ে লিখতে যাচ্ছি।

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী আমাদের দেশে অতি পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে একটি। অ্যালোভেরা কে আমরা বাংলায় ঘৃতকুমারী নামেই বেশি চিনি।

তবে এটি কে সারা বিশ্বের মানুষ অ্যালোভেরা নামেই চিনে থাকে।অ্যালোভেরা গাছটি কান্ডবিহীন রসাল এবং শাসযুক্ত হয়ে থাকে।


এই গাছটি লম্বায় গড়ে ৬০-১০০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়,এবং এর পাতা প্রায় ১০-২০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

এর পাতা কাটাযুক্ত এবং এর পাতা দেখতে অনেক টা চ্যাপ্টা আকৃতির হয়ে থাকে।
 গাছটির ফুল দেখতেও মারাত্মক রকমের সুন্দর হয়ে থাকে।

অ্যালোভেরা গাছটির আদি জন্ম স্থান উত্তর আফ্রিকা এবং কেনারিদিপুঞ্জে। ক্যারলিনিয়াস নামক এক ব্যক্তি প্রথম এর নাম করন করে অ্যালোভেরা নামে।

যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন দেশে অ্যালোভেরা কে ওষধি গাছ হিসাবে একে নানাবিধ ব্যবহার করে আসছে।

অ্যালোভেরা এর গুনাগুণ এবং এর ব্যবহার।



অ্যালোভেরা পাতার মাঝে এক ধরনের স্বচ্ছ জেলির পদার্থ পাওয়া যায় এবং তাকে আমরা জেল বলেই মনে করি। 


এবং এর পাতার ঠিক নিচের অংশে এক ধরনের হলুদ রঙ এর ল্যাটিস পাওয়া যায় এবং তার নিচেই এই জেল পদার্থটিকে পেয়ে থাকি।

হাজারো গুনের গুনান্বিত এই ভেষজ উদ্ভিদটির গুনের কোন কমতি নেই তাই এর গুনাগুণ বলে শেষ করা যাবে না।

এত ক্যালশিয়াম,ম্যাঙ্গানিজ,সোডিয়াম,আয়রন,জিঙ্ক,ফলিক অ্যাসিড,অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে শুরু করে ভিটামিন এ,বি৬,বি২ ইত্যাদি উপাদান গুলি বিদ্যমান থাকে।

অ্যালোভেরার জেলকে রূপচর্চা থেকে শুরু করে নানাবিধ স্বাস্থ্য রক্ষায় এর ব্যবহার হয়ে আসছে। অ্যালোভেরার বিদ্যমান জেলকে অনেকেই জুস হিসাবে পান করে থাকে।

অ্যালোভেরার মধ্যে হাজারো বিস্ময়কর উপাদান গুলির মধ্যে আজকের পোষ্টে কয়েকটি উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবোঃ

অ্যালোভেরার বিস্ময়কর উপকারিতা


হার্ট সুস্থ রাখে অ্যালোভেরাঃ

আপনার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া কে সুস্থ-স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরার জুস,অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী হার্টে থাকা অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কে কমিয়ে আনে।


এটি ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রন করে রক্তের স্বাভাবিক সঞ্চালন কে স্বাভাবিক রাখে 
এবং রক্তের অক্সিজেনের পরিমান পরিবাহনের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

এটি রক্তের দুষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে দেয় এবং রক্ত কনিকা বাড়াতে সাহায্য করে।

ফলে দীর্ঘ সময় কাল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া সুস্থ এবং সবল থাকে।

মাংসপেশী এবং জয়েন্টের ব্যাথা কমায় অ্যালোভেরাঃ

অ্যালোভেরা আমাদের জয়েন্টের বা মাংসপেশির ব্যাথা নিরাময় করতে সাহায্য করে থাকে।


এমনকি ব্যাথার জায়গার অ্যালোভেরা জেল এর ক্রিম লাগালে ব্যাথা কমে যায় অনেকাংশে।

দাঁতের যত্নে অ্যালোভেরাঃ

অ্যালোভেরার জুস খেলে আমাদের দাঁত এবং মাড়ির ব্যাথা দূর করতে সাহায্য করে বা ব্যাথা উপশম করে থাকে।


দাঁতে ব্যাকটেরিয়া জনিত ব্যাথা থাকলে তা দূর করে।

তাই নিয়ম করে অ্যালোভেরার জুস খেতে পারলে দাঁত ক্ষয় রোধ প্রতিরোধ করে থাকে।

ওজন কমাতে অ্যালোভেরাঃ

ওজন কমাতে অ্যালোভেরার জুস মারাত্মক ভাবে উপকারি,কারন ক্রনিক প্রদাহের কারনে আমাদের শরীরে মেদ জমে।


কারন অ্যালোভেরা রসে বিদ্যমান অ্যান্টি ইনফ্লামেন্টরী আমাদের এই প্রদাহ রোধ করে ওজন হ্রাস করে।

তাই পুষ্টিবিধ রা আমাদের ওজন কমাতে আমাদের ডায়েট লিষ্টে অ্যালোভেরার জুস কে খাবার জন্য সাজেষ্ট করে থাকেন।

হজমে শক্তি বাড়ায় অ্যালোভেরাঃ

অ্যালোভেরার কোন জুড়ি নেই হজম শক্তি বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে।


এটি আমাদের অন্ত্রের সব রকম প্রদাহ তৈরি করে এমন ব্যাকটেরিয়াকে রোধ করে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে, যা আমাদের হজমশক্তি বাড়িয়ে দেয়।

অ্যালোভেরা ডায়রিয়ার মত সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করে সাড়িয়ে তোলে।

ডায়বেটিসের প্রতিরোধে অ্যালোভেরাঃ

অ্যালোভেরার জুস আমাদের ডায়বেটিসকে কন্ট্রোল করতে সাহায্য করে। 


এটি রক্তের সুগারের পরিমান কে সঠিক রাখে এবং দেহের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিসের শু
রু প্রথম থেকেই যদি নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করা যায় তাহলে এর প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়ে থাকে।


তাই খাওয়ার আগে বা খাওয়ার পর নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস খেয়ে নিন এতে আপনার ডায়বেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরাঃ

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার নানা রকম ভাবে একে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এটা আমাদের সবারই কম বেশি জানা।


কারন অ্যালোভেরাতে বিদ্যমান অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরী উপদান থাকে যা ত্বকের বিভিন্ন প্রকার ইনফেকশন জনিত সমসয়া তথা ব্রন দূর করে থাকে এবং ব্রন হবার সম্ভবনা হ্রাস করে।

তাইতো বিভিন্ন কোম্পানী ব্রনের বা ফেস-ওয়াস তৈরির ক্ষেত্রে অ্যালোভেরাকে ব্যবহার করে তৈরি করেছে বলে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরাঃ

অ্যালোভেরা হচ্ছে একটি অ্যান্টি মাইকোবিয়াল এবং অ্যান্টি ফ্যাংগাল উপাদান নিয়ে গঠিত একটি গাছ , যার জুস নিয়মিত পান করলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং দেহের ইদ্যমান সব ধরনের টক্সিক উপদান গুলি বের করে দেয়,
যার ফলে দেহ সুস্থ স্বাভাবিক থাকে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে অ্যালোভেরাঃ

অ্যালোভেরাতে বিদ্যমান ভিটামিন সি আছে যা আমাদের মুখের ভেতরের জীবানু দূর করে আমাদের চোয়াল এর মাড়ি বা মাড়ি ফোলা সমস্যা দূর করে,কয়েক বার গবেষনায় এটি দেখা গেছে যে অ্যালোভেরার জেল কে বিকল্প মাউথয়াসেও ব্যবহার করা যায়।

চুল সুন্দর রাখে অ্যালোভেরাঃ

সত্যি এটাই যে অ্যালোভেরার গুনাবলি প্রকাশ করেও শেষ করা যায় না,মাথার খুশকি দূর করতে হলে অ্যালোভেরার কোন তুলনাই নেই।


এছাড়া চুলে ঝলমলে লুক দেয়ার জন্য অ্যালোভেরা অনেক উপকারে আসে।

সুতরাং যাদের চুলের নানা রকম সমস্যা আছে যেমন চুল পড়া কিংবা চুলের গোড়া নরম তারা চাইলে নিয়মিত অ্যালোভেরা মেখে নিতে পারেন চুলে।

এতে আপনার সব ধরনের সমস্যা চুল থেকে চলে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

মুখের ঘা ঠিক করে অ্যালোভেরাঃ

আমরা দেখি অনেকেরেই মুখ ঘা হয়ে থাকে, আর এই ঘা কে সাড়িয়ে তুলতে অ্যালোভেরা মারাত্মক ভাবে কার্যকর। 


ঘায়ের জায়গাতে অ্যালোভেরার জেল লাগিয়ে দিন দেখবেন ম্যাজিকের মত কাজ করেছে অ্যালোভেরা।

এছাড়াও ব্রেষ্ট বা স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে,উচ্চ রক্তচাপ কমাতে,ক্ষতিকারক পদার্থ অপসারন করে,চর্মের রোগ বা ক্ষত ঠিক করে,দেহের ক্লান্তি দূর করে থাকে। 


মোট কথা অ্যালোভেরা হচ্ছে স্বার্বজনীন একটি ওষুধি গুনাগুণ গুন সম্পন্ন গাছ যার গুনের ভান্ডার এর ব্যখ্যা দিয়ে কখনোই শেষ করা যাবেনা।

আশা করি আজকের পূর্ন ব্লগ বা নিবন্ধনে অ্যালোভেরার গুন নিয়ে আপনাদের আর কোন প্রকার জানতে বাঁধা নেই,তাই যদি এই ব্লগ টি আপনার উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই নিচের কম্মেন্ট বক্সে আপনার গুরুত্ব পূর্ন মন্তব্য জানাবেন।


এবং নিত্য নতুন কিছু জানতে আমাদের পাশেই থাকুন।

Leave a Comment