চুলের যত্ন নিয়ে কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে পরিচর্যা

by Admin

চুলের যত্ন নিয়ে কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে পরিচর্যা

চুল পড়া,চুল এর গোড়া ভেঙ্গে যাওয়া,চুল ঠিক মতো বৃদ্ধি না পাওয়ার মত নানা বিধ সমস্যা আমাদের লেগেই থাকে ,তাই এই চুল নিয়েও আমাদের চিন্তার কোন অন্ত নেই। 

কিন্তু এই চুলের সমস্যা সমাধানের জন্যও প্রাকৃতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের কোন বিকল্পও নেই। এটি ব্যবহার করা যেমন নিরাপদ তেমনি স্বাথ্য-সম্মত ও কার্যকরি।

আমাদের হাতের কাছেই অনেক প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা দিয়ে খুব সহজেই এই সমস্যা গুলি সমাধান করা যেতে পারে। তাই আজ কিছু চুলের যত্নে কার্যকরী টিপস ও কার্যকরী গুনাবলী ও এর কার্যকারি জিনিস নিয়ে মূলত আজকের এই লেখা।

আলুর রসঃ 
আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে এবং আমরা জানি ত্বকের সমস্যা দূর করনে আলুর রস অনেক টা কার্যকরী।এই আলুর রস চুলের বৃদ্ধিতেও সমান ভাবে অনেক কার্যকর উপাদান। 

পরিমিত আলুর রস ছেচে বের করে স্ক্যাল্পে লাগান এবং ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে যেমন সাহায্য করবে তেমনি আপনার চুল ভেঙে যাওয়া রোধ করবে।

Also Read: অনলাইনে ঘরে বসে আয় করার টিপস ২০২০

গরম তেলঃ
চুলের মধ্যে পুষ্টি যোগাতে গরম তেলের ব্যবহার অপরিসীম। গরম তেল চুলে ব্যবহারের মাধ্যমে চুলের রুক্ষতা দূর করতে সাহায্য করে এবং চুলকে করে উজ্জ্বল থাকে। 

একটি স্পুনে ২ টেবিল চা চামচ বাদাম তেল বা অলিভ অয়েল বা জোজোবা অয়েল বা নারকেল তেল নিয়ে একটি পাত্রে ঢেলে গরম করে নিন এবং হালকা হালকা গরম হলে এটি নামিয়ে নিন এবং আলতো ভাবে ম্যাসাজ করে মাথায় ভাল করে লাগান। 

এরপর গরম জলে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে পুরোপুরি মাথাতে পেচিঁয়ে রাখুন। এরপর ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিন।এতে চুলের গোড়া যেমনি শক্ত হবে তেমনি চুল সিল্কিও হবে।

ডিমের সাদা অংশঃ
চুলের রুক্ষতা কাটানোর জন্য ডিম অনেক বেশি উপকারী। 
এটি চুলের ভিতরের অংশকে ময়েশ্চারাইজ করে থাকে।তাই আপনি ১ টি ডিম নিয়ে ডিমের সাদা অংশ টুকুর সাথে ৩ চা চামচ জল নিয়ে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন এবং প্যাকটি মাথার চুলে লাগিয়ে নিন এবং ৩০ মিনিট  ধরে অপেক্ষা করুন।
এরপর শুকিয়ে গেলে তা ভাল করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু করার পর পরই চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে একদমই ভুলবেন না।
 
আমলকির ব্যবহারঃ 
চুলের বাড়তি যত্নের জন্য আমলকি অনেক কাজে আসে।
কারন আমলকি তে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে যা ত্বকের জন্য অনেক উপকারি,তাই ১৫-২০ টি আমলকি নিয়ে ছেচে আমলকির রস চুলে লাগিয়ে নিন এর পর ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন দেখতে পারবেন চুলের মধ্যে সিল্কি একটা ভাব এসে পড়েছে,তাছাড়া চুলের গোড়াও শক্ত করে আমলকির ব্যবহারে তাই নিয়মিত আমলকি ব্যবহার করুন।
 

পিয়াজের রসঃ

চুলের বাড়তি যত্ন নিতে পিয়াজের রস অনেক বেশি কাজ করে থাকে,বিশেষ করে যাদের চুলে প্রচুর খুশকি থেকে থাকে তারা পরিমান মত কয়েকটি পিয়াজ নিয়ে তা ছেচে রস বের করে চুলে লাগান এতে করে আপনার চুল পরা বন্ধ সহ খুশকি দূর হবে।

খুশকি মূলত হচ্ছে মৃত চামড়া যা আমাদের চুলের গোড়ার দৃঢ়টাও কমিয়ে দেয় তাই যাদের মাথায় প্রচুর খুশকি তারা পিয়াজের রস ব্যবহার করতে পারেন।

মেথিঃ
চুলের যত্নে মেথি হচ্ছে আরেকটি কার্যকরি উপাদান, এটি ব্যবহারে চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমিয়ে আনে এবং চুল খুব দ্রুত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
এছাড়াও মেথি চুলের প্রাকৃতিক রং কে ধরে রাখতে সাহায্য করে,তাই ১ চা চামচ মেথি গুড়ো নিয়ে ২ চা চামচ নারকেলের দুধের সঙ্গে মিশিইয়ে প্যাক করে ৩০ মিন চুলে লাগান এবং এর পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।এই প্রক্রিয়া আপনি সপ্তাহে ২ বার করে লাগান।

জবা ফুলের ব্যবহারঃ

চুলের যত্ন নিতে জবা ফুলের কোন জুড়ি নেই,এর জন্যই চুলের বিভিন্ন পন্যতে জবা ফুলের ব্যবহার খুব ভালো ভাবে দেখানো হয়ে থাকে,জবা ফুলের কার্যকারিতা বলে শেষ করা করা যাবে না।হাজার হাজার বছর ধরে জবা ফুলের প্রকৃতিক ব্যবহার হয়ে থাকে চুলের যত্নে।
তাই আপনি কয়েকটি জবা ফুল নিয়ে নারকেলের রসের সাথে মিশিয়ে চুলে লাগান এবং ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন।দেখবেন চুল মূহুরতেই ঝলমলে,সুন্দর,সিল্কি ও নরম হয়ে যাবে।
আজকে এতো টুকুই,আসলে প্রকৃতে প্রচুর উপাদান রয়েছে আমাদের জন্য যা আমাদের দৈনিন্দিন কাজে লেগে থাকে,তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আপনি এই প্রক্রিয়া তে আপনার চুল কে মজবুত করতে পারেন সহজেই।
টিউন টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন যাতে আপনার দ্বারা আপনার বন্ধুরাও উপকৃত হতে পারে

Also Read: ফেসবুকে পেজের লাইক বাড়ানোর কিছু উপায়

Related Posts

Leave a Comment